পুলিশের দায়িত্বকাজে বাধা দেওয়া ও হামলার অভিযোগে শ্যামপুর থানায় দায়ের করা মামলায় আইনজীবিকে দেওয়া ৩ দিনের রিমান্ড আদেশের বৈধতা জানতে চেয়ে রুল ইস্যু করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। আজ ৯ই জুন, বৃহস্পতিবার আইনজীবিদের দায়ের করা রিট পিটিশন নং- ৭০৪৫/২০২২ এ আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন মহামান্য হাইকোর্ট এর বিচারপতি জনাব মোঃ মজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি জনাব খিজির হায়াত সাহেবের দ্বৈত বেঞ্চ। একই সাথে আগামী রবিবার নিন্ম আদালতের নথি তলব করেছেন ও পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেন। এসময় শুনানীতে অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবনির্বাচিত সদস্যগন, সিনিয়র আইনজীবিবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক আইনজীবিবৃন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় এটর্নী জেনারেল সিনিয়র আইনজীবি জনাব এ এম আমিন উদ্দিন সহ ডিএজি ও এএজিগন।
ঘটনার সূত্রপাত বিগত ০৭/০৬/২০২২ ইং তারিখ মঙ্গলবার। রাজধানীর জুরাইন এলাকা হতে মোটরসাইকেলযোগে নিজ কর্মস্থল ঢাকা জজ কোর্টে যাচ্ছিলেন ২জন বিজ্ঞ আইনজীবি এডভোকেট ইয়াসিন জাহান নিশান ও সোহাকুল ইসলাম রনি। অতপর জুরাইন রেলগেট এলাকায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট তাদেরকে থামান ও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অতপর কথাকাটির জেরের একপর্যায়ে অন্তসত্বা নারী আইনজীবি এডভোকেট ইয়াসিন জাহান নিশান এর সাথে অসৌজন্যমুলক আচরনের অভিযোগে সাধারন লোকজন দায়িত্বরত সাজেন্ট ও পুলিশ সদস্যদের উপর চড়াও হন ও প্রতিবাদ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা উক্ত সার্জেন্টে ও পুলিশ সদস্যদের উপর ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন। উক্ত ঘটনায় উক্ত আইনজীবিগন সহ সর্বমোট ৬ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করেন শ্যামপুর থানা পুলিশ। এবং অত্র মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়।
অতপর ঢাকার বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিজ্ঞ অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জনাব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মামলার রিমান্ড শুনানী গ্রহন করেন। শুনানীতে ঢাকা আইনজীবি সমিতির বর্তমান সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, সিনিয়র আইনজীবি জনাব কাজী নজিবুল্লাহ হিরু সহ ঢাকা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক মন্ডলী ও ঢাকা আইনজীবি সমিতির বিপুল আইনজীবি অংশগ্রহন করেন। শুনানীঅন্তে ঐ অন্তসত্বা নারী আইনজীবিকে জামিন প্রদান করলেও অপর বিজ্ঞ আইনজীবি ও অন্যন্যদের ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এতে ঢাকা আইনজীবি সমিতির বিপুল সংখ্যক আইনজীবিগন ক্ষোভে ফেটে পড়েন ও বিজ্ঞ সি এম এম আদালতের সামনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে সন্ধার পর পর্যন্ত দফায় আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন হাজার হাজার আইনজীবি। অতপর সিনিয়র আইনজীবিদের দেওয়া আদেশ পুনঃ বিবেচনার আবেদন গ্রহন করে বিজ্ঞ সি এম এম আদালত আসামীদের রিমান্ড আদেশ পুনঃবিবেচনার বিষয়ে আগামী রোববার শুনানীর দিন ধার্য্য করেন ও আসামীদের জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন।
ইতোমধ্যেই আজ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবি ও সাধারন আইনজীবিগন উক্ত ঘটনা ও রিমান্ড আদেশকে বেআইনি, অসাংবিধানিক, ও বিচার বিভাগের জন্য অসম্মানজক আখ্যা দিয়ে মহামান্য হাইকোর্টের নজরে আনেন। অতপর মহামান্য হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্জ উক্ত রিট আবেদনের গুনাগুন ও যৌক্তিকতা বিবেচনায় এ আদেশ দেন।
আরোও জানুনঃ
পারিবারিক নারী নির্যাতনে কি কি মামলা করা যায়
মামলা থাকলে সরকারী চাকুরী হবে কি?
মামলায় কিভাবে সাজা বা খালাষ হয়?
চেক ডিজঅনার মামলা হলে করনীয় কি? কিভাবে পাবেন প্রতিকার
জায়গা জমির মামলা বা দেওয়ানী মামলার ধাপসমূহ
বিভিন্ন আইনে মিথ্যা মামলা করার শাস্তি
ফেসবুক পেজ- আইনের আশ্রয়
আইনজীবি কে দেওয়া রিমান্ড আদেশের বৈধতা জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল